বিদ্র: এখানে টেকনোলজি অর্থাৎ কম্পিউটার সংক্রান্ত নতুন নতুন তথ্য থাকবে।
- বিশ্বগ্রাম
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটি
- বায়োম্যাট্রিক্স
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও ন্যানোটেকনোলজি
- ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম
- রোবটিক্স
বিবরণ
বিশ্বগ্রাম
মানুষ তখন সবেমাত্র একসাথে সমাজবদ্ধ ভাবে বসবাস করতে শুরু করেছে। কেননা মানুষ তখন বুঝতে শুরু করেছিল তারা যদি একসাথে বসবাস না করে তাহলে তারা এই পৃথিবীর বিরূপ পরিবেশের সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে পারবে না। এজন্য তারা একসাথে মিলে একত্রে লোকালয় সৃষ্টি করে বসবাস শুরু করল এবং তখন থেকেই বিনিময় প্রথার প্রচলন শুরু হয়েছিল। বিনিময় প্রথা ছিল এমন এক প্রথা যেখানে মানুষ একজন আরেকজন এর সাথে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস অদলবদল করত। ধর কেউ একজন কাপড় বানাতে পারত কিন্তু সে শিকার এর জন্য অস্ত্র বানাতে পারত না, আরেকদিকে অন্যজন অস্ত্র বানাতে পারত কিন্তু কাপড় বানাতে পারত না। তখন তারা একে অপরের সাথে তাদের নিজেদের জিনিস আদান প্রদান করে জীবনের চাহিদা পূরণ করত। এটিই ছিল সমাজের ভিত্তি।
এতটুকু পড়ার পর তোমার হয়ত মনে হতে পারে কি ব্যাপার ভুল করে সমাজের স্মার্টবুক পড়ছি না তো?
নাহ! এটা সমাজের স্মার্টবুক নয়, এটি ICT এরই স্মার্টবুক ! কিন্তু তাহলে আমরা এগুলো পড়ছি কেন ?
সেই কেন এরই উত্তর এর জন্য এই স্মার্টবুকটি।
সমাজের সৃষ্টি যেরকম সভ্যতার জন্য একটি বৈপ্লবিক ঘটনা ছিল , ঠিক তেমনি আমাদের আজকের এই যে বিশ্ব, যে বিশ্বের ভিত্তি হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেটির পেছনে যে বৈপ্লবিক ঘটনা ছিল সেটি হল বিশ্বগ্রাম।
বিশ্বগ্রাম কী?
সভ্যতার শুরুতে মানুষ যেমন বিভিন্ন দ্রবাদি আদান প্রদানের মাধ্যমে একে অপরের প্রয়োজন মিটিয়ে আসত ঠিক তেমনি বর্তমান আধুনিক বিশ্বেও মানুষ একে অপরকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে কিন্তু সেটা হল তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে।
আমরা যদি বিশ্বগ্রামের সংজ্ঞা জানতে চাই তাহলে বলা যেতে পারে-
গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষই একটি একক সমাজে বসবাস করে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে একে অপরকে সেবা প্রদান করে থাকে।
Oxford Dictionary তে গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রামকে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে-
“The world considered as a single community linked by telecommunications.”
ধর তুমি আছ চট্টগ্রামে, তোমার ঢাকার একটি দোকানের জিনিশ পছন্দ হল, তুমি সহজেই সেটি কিনে ফেলতে পারবে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে। আর এগুলো সবই কিন্তু সম্ভব হচ্ছে বিশ্বগ্রাম এর জন্য। কেননা এ ব্যবস্থায় এক জায়গার সাথে অন্য জায়গার কোন দূরত্ব নেই, সমগ্র পৃথিবীটাই যেন একটি গ্রাম একটি একক সমাজ।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি
প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনার উদ্যোগকারী বিজ্ঞান নির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা অনুভবের বাস্তবতা কিংবা কল্পবাস্তবতা বলে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হচ্ছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত সিস্টেম, যাতে মডেলিং ও অনুকরণবিদ্যা প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষ কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পরিবেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন বা উপলব্ধি করতে পারে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে অনুকরণকৃত পরিবেশ হুবহু বাস্তব পৃথিবীর মতো হতে পারে। এক্ষেত্রে অনেক সময় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। আবার অনেক সময় অনুকরণকৃত বা সিম্যুলেটেড পরিবেশ বাস্তব থেকে আলাদা হতে পারে। যেমন: ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমস। এতে ত্রিমাত্রিক ইমেজ তৈরির মাধ্যমে অতি অসম্ভব কাজও করা সম্ভব হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহারকারী সম্পূর্ণরূপে একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিমজ্জিত হয়ে যায়। তথ্য আদান-প্রদানকারী বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস সংবলিত হেড মাউন্ডেড ডিসপ্লে, ডেটা গ্লোভ, পূর্ণাঙ্গ বডি স্যুইট ইত্যাদি পরিধান করার মাধ্যমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে বাস্তবকে উপলব্ধি করা হয়। এ খাতে বর্তমানে উন্নত বিশ্বে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে। সম্প্রতি গুগলও লাইভলি নামে ভার্চুয়াল চ্যাটিং সার্ভিস চালু করেছে। যেখানে ভার্চুয়াল কক্ষে বা পরিবেশে যে কেউ তার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে প্রবেশ করতে পারে। সেখানে ইচ্ছেমতো বস্তু দিয়ে সাজানো, বন্ধুদের সঙ্গে মারামারি, নাচানাচি আবেগের গ্রাফিক্যাল প্রকাশ ইত্যাদি সম্ভব।
প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাবঃ
ভবিষ্যতে যখন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অনেক বেশি সহজলভ্য হয়ে যাবে, তখন তা বিনোদন থেকে শুরু করে যোগাযোগ পর্যন্ত প্রায় সবক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হবে। বিভিন্ন পেশা ও গবেষণায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রয়োগের ফলে সমাজে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
ক. ইতিবাচক প্রভাব
চিকিত্সাক্ষেত্রেঃ
উন্নত বিশ্বে ডাক্তারদের আধুনিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণে এসআইএসটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ল্যাবরোস্কোপিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এই পদ্ধতিতে কম্পিউটার সিম্যুলেশন ব্যবহার করে ল্যাবরোস্কোপিক পরিচালনার বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়। শিক্ষানবিশ ডাক্তাররা এর ফলে অন্তত সহজে ও সুবিধাজনক উপায়ে বাস্তবে অপারেশন থিয়েটারে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ভার্চুয়াল অপারেটিং কক্ষে ছাত্ররা কৌশলগত দক্ষতা, অপারেশন এবং রোগ সম্পর্কিত তাত্ত্বিক বিষয়াদির কার্যাবলি অনুশীলন করতে সক্ষম হন।
ড্রাইভিং প্রশিক্ষণেঃ
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে আজকাল ড্রাইভিং শেখানো হচ্ছে। স্বল্পমূল্যের মাইক্রো কম্পিউটার প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ড্রাইভিং সিম্যুলেটর উন্নয়ন করা হয়েছে। কম্পিউটার সিম্যুলেশনের মাধ্যমে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের জন্য চালককে একটি নির্দিষ্ট আসনে বসতে হয়। চালকের মাথায় পরিহিত হেড মাউন্ডেড ডিসপ্লের সাহায্যে কম্পিউটার দ্বারা সৃষ্টি যানবাহনের অভ্যন্তরীণ অংশ এবং আশপাশের রাস্তায় পরিবেশের একটি মডেল দেখানো হয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি হেড ট্রাকিং সিস্টেম। ফলে, ব্যবহারকারী যানবাহনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অংশের ৩৬° ডিগ্রি দর্শন লাভ করেন এবং কম্পিউটার সৃষ্ট পরিবেশে মগ্ন থাকেন।
সামরিক বাহিনীতেঃ
সামরিক বাহিনীতে অনেক বছর ধরে মিলিটারি প্রশিক্ষণে ফ্লাইট সিম্যুলেটর ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে প্রচলিত ফ্লাইট সিম্যুলেটরের আরও উন্নতি সাধন করা সম্ভব। এ ছাড়া ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সিমুলেটেড ওয়ার দ্বারা সেনাদের অনেক বেশি বাস্তব ও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে।
ব্যবসা-বাণিজ্যেঃ
ব্যবসা-বাণিজ্যেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার করে তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ করা সম্ভব। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারীকে ফাইল কেবিনেট দিয়ে কম্পিউটারের ডেক্সটপে তথ্য খুঁজতে হবে না; বরং ব্যবহারকারী নিজেই ফাইল ড্রয়ার খুলতে পারবে এবং নিজের হাতে ফাইলগুলো সাজাতে পারবে।
খ. নেতিবাচক প্রভাব
ব্যয় বৃদ্ধিঃ
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সরঞ্জামাদির চড়া দাম ও জটিলতা হচ্ছে বর্তমানে বিজ্ঞানীর প্রধান দুটি সমস্যা।
অতিমাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভরঃ
বর্তমান সমাজের মনুষ্যত্বহীনতা ইস্যুটি হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আরও একটি নেতিবাচক দিক। পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের মনুষ্যত্ব ধরে রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে যেন আমরা প্রযুক্তি দ্বারা পরিচালিত না হই। কিন্তু যদি বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিস্তৃতি লাভ করে, তাহলে মানুষের পারস্পারিক ক্রিয়া উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। কারণ, মানুষ তখন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি দ্বারা বাস্তব জীবনের চেয়েও অনেক ভালো বন্ধু এবং মনের মতো পরিবেশ পাবে। আর মানুষ যদি এভাবে কালো চশমা আর গ্লাভসকে মানুষ ও সমাজের বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়, তাহলে মানব সমাজ বিলুপ্ত হতে আর বেশি সময় লাগবে না।
কল্পনানির্ভরঃ
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে মানুষ তার কল্পনার রাজ্যে ইচ্ছে মতো বিচরণ করতে পারে। ফলে, দেখা যাবে যে বেশির ভাগ সময় কাটাবে কল্পনার জগতে এবং খুব কম সময় থাকবে বাস্তব জগতে। কিন্তু এভাবে যদি মানুষ কল্পনা ও বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে না পারে তাহলে এই পৃথিবী চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হবে।
স্বাস্থ্যের ক্ষতিঃ
এ ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও হানিকর। এটি মানুষের দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তির ক্ষতি সাধন করে।

বায়োমেট্রিক্স
বায়োমেট্রিক্স হলো বায়োলজিক্যাল ডেটা পরিমাপ এবং বিশ্লেষণ করার প্রযুক্তি। বায়োমেট্রিক্স হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে কোন ব্যক্তির গঠনগত এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত বা সনাক্ত করা হয়। গ্রীক শব্দ “bio” যার অর্থ Life বা প্রাণ ও “metric” যার অর্থ পরিমাপ করা।
বায়োমেট্রিক্স মেকানিজম- এই পদ্ধতিতে মানুষের বায়োলজিক্যাল ডেটা সংরক্ষিত করে রাখা হয় কম্পিউটারের ডেটাবেজে। একটি বায়োমেট্রিক ডিভাইস কোন ব্যক্তির গঠনগত বা আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলোকে ডিজিটাল কোডে রুপান্তর করে এবং এই কোডকে কম্পিউটারে সংরক্ষিত কোডের সাথে তুলনা করে । যদি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কোড কম্পিউটারে সংরক্ষিত কোডের সাথে মিলে যায় তবে তাকে ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতি দেয় বা সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।বায়োমেট্রিক্স সিস্টেমে সনাক্তকরণে বিবেচিত বায়োলজিক্যাল ডেটা গুলিকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথাঃ
গঠনগত বৈশিষ্ট্য-
১। ফেইস রিকগনিশন, ২। আইরিস এবং রেটিনা স্ক্যান, ৩।ফিংগার প্রিন্ট, ৪। হ্যান্ড জিওমিট্রি, ৫। ডি.এন.এ
আচরণগত বৈশিষ্ট্য-
১।ভয়েস রিকগনিশন, ২।সিগনেচার ভেরিফিকেশন, ৩।টাইপিং কীস্ট্রোক
ফেইস রিকগনিশন- সৃষ্টিকর্তা একজন মানুষের মুখমন্ডলের সাথে অন্য কোন মানুষের মুখমন্ডলের ভিন্নতা দিয়েছেন । ফেইস রিকোগনিশন সিস্টেম হচ্ছে এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যার সাহায্যে মানুষের মুখের গঠন প্রকৃতি পরীক্ষা করে তাকে সনাক্ত করা হয়। এই পদ্ধতিতে কোন ব্যবহারকারীর মুখের ছবিকে কম্পিউটারে সংরক্ষিত ছবির সাথে দুই চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব, নাকের দৈর্ঘ্য এবং ব্যাস, চোয়ালের কৌণিক পরিমাণ ইত্যাদি তুলনা করার মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে সনাক্ত করা হয়।
ব্যবহারঃ
- ১। কোন বিল্ডিং বা কক্ষের প্রবেশদ্বারে।
- ২। কোন আইডি নম্বর সনাক্তকরণে ।
চোখের আইরিস এবং রেটিনা স্ক্যান- বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তিতে সনাক্তকরনের জন্য চোখের আইরিসকে আদর্শ অঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।একজন ব্যক্তির চোখের আইরিস এর সাথে অন্য ব্যক্তির চোখের আইরিস এর প্যাটার্ন মিলবে না। আইরিশ সনাক্তকরণ পদ্ধতিতে চোখের চারিপার্শ্বে বেষ্টিত রঙিন বলয় বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা করা হয় এবং রেটিনা স্কান পদ্ধতিতে চোখের পিছনের অক্ষিপটের মাপ ও রক্তের লেয়ারের পরিমাণ বিশ্লেষণ ও পরিমাপ করা হয়। উভয় পদ্ধতিতে চোখ ও মাথাকে স্থির করে একটি ডিভাইসের সামনে দাড়াতে হয়।
ব্যবহারঃ
- ১। এই পদ্ধতির প্রয়োগে পাসপোর্টবিহীন এক দেশের সীমা অতিক্রম করে অন্য দেশে গমন করা যেতে পারে যা বর্তমানে ইউরোপে ব্যবহিত হচ্ছে।
- ২। এছাড়া সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, মিলিটারি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতেও সনাক্তকরণ কাজে ব্যবহার করা হয়।
ফিঙ্গার প্রিন্ট- একজনের আঙ্গুলের ছাপ বা টিপসই অন্য কোন মানুষের আঙ্গুলের ছাপ বা টিপসইয়ের সাথে মিল নেই। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমেই আঙ্গুলের ছাপ ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডার এর মাধ্যমে আঙ্গুলের ছাপ ইনপুট নিয়ে ডেটাবেজে সংরক্ষিত আঙ্গুলের ছাপের সাথে তুলনা করে কোন ব্যাক্তিকে চিহ্নিত করা হয়।
ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডার হচ্ছে বহুল ব্যবহৃত একটি বায়োমেট্রিক ডিভাইস যার সাহায্যে মানুষের আঙ্গুলের ছাপ বা টিপসই এগুলিকে ইনপুট হিসাবে গ্রহণ করে তা পূর্ব থেকে সংরক্ষিত আঙ্গুলের ছাপ বা টিপসইয়ের সাথে মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয় ।
ব্যবহারঃ
- ১। কোন প্রোগ্রাম বা ওয়েবসাইটে ইউজার নেইম এবং পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার।
- ২। প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ ।
- ৩। ব্যাংকিং পেমেন্ট সিস্টেমে।
- ৪। ডিএনএ সনাক্ত করার কাজে।
হ্যান্ড জিওমিট্রি– প্রতিটি মানুষের হাতের আকৃতি ও জ্যামিতিক গঠনেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। বায়োমেট্রিক ডিভাইস দ্বারা হ্যান্ড জিওমিট্রি পদ্ধতিতে মানুষের হাতের আকৃতি বা জ্যামিতিক গঠন ও হাতের সাইজ ইত্যাদি নির্ণয়ের মাধ্যমে মানুষকে সনাক্ত করা হয়। এই পদ্ধতিতে হ্যান্ড জিওমেট্রি রিডার হাতের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, পুরুত্ত ইত্যাদি পরিমাপ করে ডেটাবেজে সংরক্ষিত হ্যান্ড জিওমেট্রির সাথে তুলনা করে ব্যক্তি সনাক্ত করে ।
ব্যবহারঃ
- ১। এয়ারপোর্টের আগমন-নির্গমন নিয়ন্ত্রণ ।
- ২। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীজীবীদের উপস্থিতি নির্ণয়ে ।
- ৩। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং লাইব্রেরিতে।
ডিএনএ- ডিএনএ ফিংগার প্রিন্টিং এর সাহায্যে মানুষ চেনার বিষয়টি অনেক বেশি বিজ্ঞান সম্মত। কোন মানুষের দেহ কোষ থেকে ডিএনএ আহরণ করার পর তার সাহায্যেই কতিপয় পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি অনুসারে ঐ মানুষের ডিএনএ ফিংগার প্রিন্ট তৈরি করা হয়। মানব দেহের রক্ত, চুল, একবার বা দুবার পরা জামা কাপড় থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করা।
ব্যবহারঃ
- ১। অপরাধী সনাক্তকরণে
- ২। পিতৃত্ব নির্ণয়ে
- ৩। বিকৃত শবদেহ শনাক্তকরণে
- ৪। লুপ্তপ্রায় প্রাণীদের বংশ বৃদ্ধির জন্য
- ৫। চিকিৎসা বিজ্ঞানে
ভয়েস রিকোগনিশন- ভয়েস রিকোগনিশন পদ্ধতিতে সকল ব্যবহারকারীর কন্ঠকে, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর সাহায্যে ইলেক্ট্রিক সিগন্যালে রুপান্তর করে প্রথমে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করতে হয় এবং একজন ব্যবহারকারীর কণ্ঠকে ডেটাবেজে সংরক্ষিত ভয়েস ডেটা ফাইলের সাথে তুলনা করে কোন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়।
ব্যবহারঃ
- ১। অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতি ব্যবহার করে।
- ২। টেলিফোনের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে ভয়েস রিকোগনিশন সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ৩। টেলিকমিউনিকেশন সিস্টমের নিরাপত্তায়।
সিগনেচার ভেরিফিকেশন- সিগনেচার ভেরিফিকেশন পদ্ধতিতে হাতে লেখা স্বাক্ষরকে পরীক্ষা করা হয়। এই পদ্ধতিতে স্বাক্ষরের আকার, লেখার গতি, লেখার সময় এবং কলমের চাপকে পরীক্ষা করে ব্যবহারকারীর স্বাক্ষর সনাক্ত করা হয়। একটি স্বাক্ষরের সকল প্যারামিটার ডুপ্লিকেট করা সম্ভব নয়। এই পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ ধরণের একটি কলম এবং প্যাড বা টেবলেট পিসি ।
ব্যবহারঃ
- ১। ব্যাংক-বীমা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে স্বাক্ষর সনাক্তকরণের কাজে এই পদ্ধতি ব্যবহার হয়ে থাকে।
বায়োমেট্রিক্স ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহঃ
- ১। প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ
- ২। অফিসের সময় ও উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
- ৩। পাসপোর্ট তৈরি
- ৪। ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি
- ৫। ব্যাংকের লেনদেন নিরাপত্তা
- ৬। ATM বুথে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ
- ৭। আবাসিক নিরাপত্তা নিয়ন্তণ
- ৮। কম্পিউটার ডাটাবেজ নিয়ন্ত্রণ
